রংপুর মেডিকেলের হিমঘরে এমপি লিটনের মরদেহ
দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। শনিবার রাতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গায় নিজ বাসভবনে এই সংসদ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে রমেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত এমপির শরীরে মোট পাঁচটি বুলেট লেগেছে বলে চিকিৎসকরা জানান।
শনিবার রাতে রংপুর রেঞ্জের উপপুলিশ মহাপরিচালক (ডিআইজি) খন্দকার গোলাম ফারুক জানিয়েছেন, আগামীকাল রোববার সকালে ময়নাতদন্তের পর লিটনের মরদেহ পরিবার ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সকাল ১০টার মধ্যে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে বলে জানান ডিআইজি।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক বিমল চন্দ্র রায় জানান, দুটি বুলেট এমপি লিটনের বুকে লাগায় তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অবশিষ্ট তিনটি বুলেটের দুটি লেগেছে ডান হাতে, অন্যটি ডান কাঁধে।
চিকিৎসক বিমল চন্দ্র রায় ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘সংসদ সদস্য লিটনকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। তাঁর শরীরে মোট পাঁচটি গুলি লেগেছে। এর মধ্যে দুটি গুলি লেগেছে বুকে আর তিনটি লেগেছে হাতে। একটি গুলি বুক দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে রক্ষা করা যায়নি।’
হাসপাতালে আনার আগেই কি সংসদ সদস্য মারা যান—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিমল চন্দ্র রায় বলেন, ‘এটা আমি বলতে পারব না। এখানে আনার পর পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে আমরা যখন পাই, তখনই তাঁর নাড়ি, রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন পাওয়া যাচ্ছিল না। এর জন্য ভেন্টিলেশন, স্যালাইন, সিপিআরসহ অন্যান্য যা যা করার দরকার, আমরা সবাই মিলে তাই করেছি। কিন্তু আধা ঘণ্টার বেশির সময় ধরে চেষ্টা করেও আমরা তাঁকে ফেরাতে পারিনি। রাত সাড়ে ৭টায় আমরা সিদ্ধান্ত নিই যে তিনি আর বেঁচে নেই।’
এদিকে লিটন হত্যায় জড়িত সন্দেহে শনিবার রাতেই তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলার বামনডাঙ্গা থেকে তাদের আটক করা হয় বলে জানান সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিউর রহমান।
এদিকে, এমপি লিটন দুর্বৃত্তের হাতে নিহতের এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাতে এক শোক বিবৃতিতে তিনি সংসদ সদস্যের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বিবৃতিতে বলেন, ‘দেশ যখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি মহল দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। হত্যা ও সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তাদের হত্যার রাজনীতির পথ ধরেই তারা নির্বাচিত সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে হত্যা করেছে।’
এদিকে সংসদ সদস্য লিটন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর পরই তাঁর নির্বাচনী এলাকাসহ গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। হাসপাতালে মারা যাওয়ার খবর শুনে সুন্দরগঞ্জে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকায় র্যাব, পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মোড়ে মোড়ে টহল দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এমপি লিটন মারা যাওয়ার পর পরই সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা এলাকায় দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় নেতাকর্মীরা রাস্তায় এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। পাশের উপজেলা গোবিন্দগঞ্জ, সাদুল্যাপুর, গাইবান্ধা শহরেও বিক্ষোভ করেছেন নেতাকর্মীরা।
তবে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুন্দরগঞ্জ ও বামনডাঙ্গায় সুনসান নীরবতা নেমে আসে। সেখানে বিপুল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।
পুলিশের রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. বশির আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে। খুই দ্রুতই এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে।
ঘটনার পর পরই সংসদ সদস্যের স্ত্রী খোরশেদ জাহান স্মৃতি এনটিভি অনলাইনকে বলেছিলেন, ‘সংসদ সদস্যকে তাঁর নিজ বাড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গায় গুলি করা হয়েছে। দুই দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে পালিয়ে যায়। তার পরই তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’
তবে কারা গুলি করেছে—এ ব্যাপারে এখনো কিছু জানা যায়নি বলে এনটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিউর রহমান।