ঢাবি ছাত্রলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ
রাজধানীর আনন্দবাজারের ১০টি দোকানে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে। বেশ কয়েকজন দোকান মালিক এনটিভি অনলাইনের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন।
দোকান মালিকেরা বলছেন, ছাত্রলীগের দুই নেতার চাঁদা চাওয়ার কারণে তাঁরা গত ১০দিন ধরে দোকান বন্ধ রেখেছেন। চাঁদা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগের দুই নেতা হলেন ঢাবির অমর একুশে হল ছাত্রলীগের সভাপতি এনায়েত হোসাইন মনন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হাসান সোহাগ। তবে, এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাঁরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দোকান মালিক এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘১০ দিন আগে অমর একুশে হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতা দোকানে আসেন। এ সময় তাঁরা একটি ইস্যু তৈরি করে দোকান মালিকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে দোকানগুলো বন্ধ রাখতে বলেন। পরে দোকান মালিকদের ওয়ান স্টার হোটেলে ডেকে নিয়ে প্রতিটি দোকান থেকে এক লাখ করে মোট ১০ লাখ টাকা চাঁদার কথা বলেন।’
দোকান মালিকদের অভিযোগ, ‘টাকা না দেওয়ায় দোকানগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ১০ দিন ধরে দোকানগুলো বন্ধ রয়েছে। এমনকি টাকা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনায়েত হোসাইন মনন এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। তবে, আমার কোনো কর্মী যদি এ কাজে জড়িত থাকেন, তবে আমরা অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। দোকান মালিকেরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’ ‘মিথ্যা অভিযোগ’ করায় দোকান মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়।’
চাঁদা দাবির বিষয়ে দোকান মালিক সমিতির এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘চাঁদা চাওয়ায় দোকান মালিকেরা বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ রেখেছেন। দোকানের কর্মচারীরাও এখন বেকার সময় কাটাচ্ছেন। প্রাণভয়ে কেউ দোকান খুলছেন না। তবে আমরা মালিক সমিতি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্তে যাব।’
অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে আমাদের কেউ জানায়নি। কেউ অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ঢাবির অমর একুশে হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হাসান সোহাগকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। আমরা অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আর অভিযোগকারীদের প্রতি আমার পরামর্শ, তাঁরা যেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা নেন।’
জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগ।